কীভাবে সঠিক সানস্ক্রিন ব্যবহার করবেন?
কীভাবে সঠিক সানস্ক্রিন ব্যবহার করবেন?
আমাদের ত্বকে যত ধরণের সমস্যা দেখা দেয় সেসবের পেছনে অনেকটাই দায়ী সূর্যের ক্ষতিকর অতিবেগুনি রশ্মি। এটাকে সানব্লক, সানক্রিম, সানট্যানিং লোশন বা ক্রিমও বলা হয়ে থাকে।
সূর্যের ক্ষতিকর অতিবেগুনি রশ্মি থেকে ত্বকের সুরক্ষার জন্য এই ক্রিম ব্যবহার করা হয়ে থাকে। এটি নিয়মিত ব্যবহার না করলে ত্বকে রোদে পোড়া ভাব দাগ দেখা দেয় এবং ত্বক কালো হয়ে যায়। প্রতিদিন আমাদের ত্বক ২ ধরনের সূর্য রশ্মির মুখোমুখি হয়। একটি UVA অন্যটি UVB রশ্মি ত্বকের ভেতর পর্যন্ত যেয়ে কোলাজেন প্রোডাকশন কমিয়ে দেয়। যার ফলে চামড়া কুঁচকে যায়, বলিরেখা দেখা দেয়, ত্বকে বয়সের ছাপ বোঝা যায়, ফাইন লাইনের মতো সমস্যা এবং রিংকেল তৈরি হয়। UVB রশ্মি মূলত সানবার্নের মতো সমস্যার জন্য দায়ী। এছাড়া ত্বকের কালো দাগ বা পিগমেন্টেশনের সমস্যাগুলো হয় UVB এর কারণে। এছাড়াও, সূর্যের ক্ষতিকর রশ্মির প্রভাবে ত্বকে ক্যান্সার হবারও সম্ভাবনা থাকে অনেক বেশি। তাই আজকে আমরা সানক্রিম সম্পর্কে জানবো।
সূর্যের ক্ষতিকর রশ্মি কি?
সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি মূলত দুই ধরনের হয়ে থাকে। UVA – Ultra Violet A এবং UVB – Ultra Violet B।
রশ্মিই ত্বকের জন্য মারাত্মক ক্ষতির কারণ। এটি নিয়মিত ব্যবহার না করার ফলে ত্বকে বয়সের ছাপ ও চামড়ার কুঁচকানো ভাব দেখা যায়। ইউভিবি ত্বকের বাহিরের স্তর বা সারফেস জ্বালিয়ে দেয়। ফলে রোদে পোড়া দাগের কারণে ত্বক হয়ে যায় অনুজ্জ্বল। এমন অবস্থা থেকে ত্বকে ক্যান্সার হবার সম্ভাবনা থাকে। তাই, রোদ হোক বা বৃষ্টি নিয়মিত সানক্রিম ব্যবহার করতে হবে।
ঘরে থাকলে সানস্ক্রিন ব্যবহার করার কোনো দরকার। এছাড়াও এখন বহু মানুষেরই দিনের বেসির ভাগ সময় কাটে মোবাইল ফোন বা কম্পিউটারের স্ক্রিনের সামনে। এই ধরনের যন্ত্রের পর্দা থেকে বিশেষ ধরনের নীল আলোকরশ্মি নির্গত হয়। এটি প্রাথমিক ভাবে ত্বক শুষ্ক করে দেয়। বিশেষ করে শীতকালে এই জাতীয় যন্ত্রের সামনে বেশি সময় কাটালে ত্বকের ব্যাপক ক্ষতি হয়। এই আলো থেকেই ত্বককে বাঁচাতে পারে সানস্ক্রিন। তাই ঘরেও এই ক্রিম ব্যবহার করা উচিত।
আপনি জানেন কি?
সূর্যের ক্ষতিকর রশ্মি আপনার ত্বকে কীভাবে প্রভাব ফেলতে পারে তা আপনাদের জানাবো।
* সকাল ১০টা থেকে দুপুর ৩টা পর্যন্ত সূর্যের ক্ষতিকর অতিবেগুনি রশ্মি অনেক বেশি শক্তিশালী হয়ে থাকে।
*গ্রীষ্মকালেই সবচাইতে বেশি কার্যকর থাকে; তবে শীতকাল ও বর্ষাকালেও এর প্রভাব থাকে।
*সূর্যের ক্ষতিকর প্রাকৃতিক অনেক উপাদান যেমন – পানি, বরফ, মাটি ইত্যাদি ৮৫% সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি সংরক্ষণ করে রাখতে পারে যা আপনার দিকে ধাবিত হতে পারে।
সানস্ক্রিন লেবেলে লেখা থাকে SPF 30 অথবা SPF 60। কিন্তু কেন লেখা হয়? SPF – Sun Protector Factor=সান প্রটেক্টর ফ্যাক্টর হচ্ছে আপেক্ষিক পরিমাপের একক। আপনার ত্বককে কতটা সুরক্ষা দিতে পারবে তার পরিমাপকে। সানস্ক্রিন ক্রিমটি সুরক্ষা দিতে পারবে আপনার ত্বককে। সানস্ক্রিন ক্রিম ছাড়া রোদে আসলে আপনার স্কিন পুড়ে যায় মাত্র ২০ মিনিটেই। এই সময়টাকেই প্রয়োজন SPF সমৃদ্ধ একটি সানস্ক্রিন।
SPF এর সঠিক পরিমাপ-
সানস্ক্রিন ক্রিমের লেবেলে লেখা থাকে SPF 30, 50 অথবা 60। সঠিক পরিমাপ হয়তো জানা নেই আপনার। সাধারণত সানস্ক্রিন ছাড়া সূর্যের ক্ষতিকর আলো ১০ মিনিট সময় নেয় ত্বক পুড়াতে।
*SPF 15 সানস্ক্রিন ত্বককে ১৫০ মিনিট সুরক্ষা দিবে।
*SPF 30 সানস্ক্রিন ত্বককে ৩০০ মিনিট সুরক্ষা দিবে।
*SPF 50 সানস্ক্রিন ত্বককে ৫০০ মিনিট সুরক্ষা দিবে।
SPF 15 বা এর নিচের মাত্রাকে মাইল্ড ফর্মুলা বা হালকা মাপের সুরক্ষা বলে বিবেচনা করা হয়ে থাকে। আবার, SPF 15-30 এই মাত্রাকে মোডারেট বা মাঝারি মাপের সুরক্ষা বলা হয়ে থাকে। আর SPF 30 এর উর্ধ্বে যা আছে সেগুলোকে হাই বা অতি উচ্চ মাত্রার সুরক্ষা বলে গণ্য করা হয়।
স্কিন ক্যানসারের কারণ হতে পারে আল্ট্রা ভায়োলেট এ। আর এই ইউভিএ এর ক্ষেত্রে SPF এর বদলে আসে ব্রড বা ফুল স্পেকট্রাম সানস্ক্রিন। মূলত ব্রড বা ফুল স্পেকট্রাম সানস্ক্রিন ইউভিএ এবং ইউভিবি দুটো থেকে ত্বককে দেয় উচ্চমাত্রার সুরক্ষা।
সানস্ক্রিনের ব্যবহার-
বিশেষজ্ঞদের মতে, সূর্যের ক্ষতিকর রশ্মিতে যাবার অন্তত আধা ঘণ্টা আগে সানস্ক্রিন ব্যবহার করা উচিত। তবে দীর্ঘক্ষণ যদি রোদের আলোয় থাকতে হয় তাহলে দুই ঘণ্টা অন্তর অন্তর সানস্ক্রিন ব্যবহার করা অত্যন্ত দরকার। আর মূলত ফেইসই নয়; বরং রোদের আলোয় আপনার ত্বক যতটুকু উন্মুক্ত থাকে ততটুকু অংশেই সানস্ক্রিন ব্যবহার করা উচিত।





