গরমে কি ধরনের ফেসওয়াশ ব্যবহার করবেন?
সুস্থতা আর সৌন্দর্যের মূল কথাই হলো পরিচ্ছন্নতা। সঠিক ফেসওয়াশ দিয়ে মুখ ধোয়া হলে ত্বক দেখায় উজ্জ্বল, লাবণ্যময়। ভুল উপাদান প্রয়োগে হতে পারে হিতে বিপরীত। তাই কী দিয়ে মুখ ধোয়া হচ্ছে, এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। যে ফেসওয়াশ বেছে নিন, তা আপনার ত্বকের উপযোগী কি না, নিশ্চিত হয়ে নিন। কেনার সময় অবশ্যই এর উপাদানগুলো দেখে নিন।
ত্বকের ধরন কি ভাবে বুজবেন-
মুখের পুরোটাই যদি চকচকে বা তেলতেলে দেখায়, তাহলে বুঝতে হবে আপনার ত্বক তৈলাক্ত প্রকৃতির। অপর দিকে পুরো মুখ যদি টান টান অনুভব করেন, তাহলে আপনার ত্বক শুষ্ক প্রকৃতির। কপাল ও নাক চকচকে কিন্তু মুখের বাকি অংশ টান টান? তাহলে আপনার ত্বক মিশ্র ধরনের। আর এগুলোর কোনোটিই যদি না হয়, তাহলে আপনার ত্বক নরমাল। ত্বকের ধরন ও ফেসওয়াশের উপকরণ বুঝে সঠিক ফেসওয়াশ বেছে নেওয়া জরুরি।
ফেসওয়াশ ধরন –
* ক্রিমভিত্তিক ফেসওয়াশ শুষ্ক ত্বকের জন্য ভালো। তৈলাক্ততা ধরে রাখতে এ ধরনের ফেসওয়াশ কার্যকর। নরমাল, মিক্স, সেনসিটিভ ত্বকের জন্য ফেসওয়াশ বেছে নিতে পারেন।
* ফোমভিত্তিক ফেসওয়াশ তৈলাক্ত, নরমাল, মিক্স, সেনসিটিভ ত্বকের উপযোগী। এতে ত্বকের স্বাভাবিক আর্দ্রতা বজায় থাকে, বাড়তি তেলও দূর হয়। ত্বক গভীর থেকে পরিষ্কারও হয়। বাড়ে উজ্জ্বলতা। ত্বকে ক্ষুদ্র ছিদ্র (পোর) থাকলে তাও কমে আসে।
* জেলভিত্তিক ফেসওয়াশ যেকোনো ত্বকেই ব্যবহার করা যায়। যদি এর উপাদানটি হয় ত্বক উপযোগী। এটিও ত্বকের বাড়তি তেল দূর করে। ত্বক থাকে পরিচ্ছন্ন, ‘ম্যাট’ ও উজ্জ্বল।
* ক্লেভিত্তিক ফেসওয়াশ ত্বকে বাড়তি তেল জমে থাকতে দেয় না। ত্বককে গভীর থেকে পরিষ্কার করে। এটি তৈলাক্ত ত্বকের জন্য ভালো। যাদের ব্রণ হয়, তাঁদের জন্যও কার্যকর।
কোন ত্বকের জন্য কোন ফেসওয়াশ-
* নরমাল ত্বকের জন্য স্যালিসাইলিক অ্যাসিড, রেটিনল, ভিটামিন সি এবং রাসায়নিক এক্সফোলিয়েন্ট–সমৃদ্ধ ফেসওয়াশ বেছে নিন।
* শুষ্ক ত্বকের জন্য আর্দ্রতা দেবে এমন উপাদানসমৃদ্ধ সফট থাকে, যা হতে হবে ঘ্রাণবিহীন ও হাইপোঅ্যালারজেনিক (অর্থাৎ যাতে অ্যালার্জির প্রবণতা কম)।
ভিটামিন ই, ল্যাকটিক অ্যাসিড, হায়ালুরনিক অ্যাসিড, সেরামাইড, ল্যানোলিন ও প্রাকৃতিক তেলসমৃদ্ধ ফেসওয়াশ ভালো। অ্যালোভেরা, দুধ, মধু, জোজোবা অয়েল কিংবা স্ট্রবেরিও দারুণ উপকরণ। অ্যালকোহল থাকে এমন ফেসওয়াশ ব্যবহার করা উচিত না।
* তৈলাক্ত ত্বকের জন্য মৃদু, জেলভিত্তিক বা ক্লে ফেসওয়াশ বেছে নিন, যাতে স্যালিসাইলিক অ্যাসিড, ল্যাকটিক অ্যাসিড ও নায়াসিনামাইড রয়েছে। কোনো তেল, অ্যালকোহল বা ক্রিমজাতীয় উপাদান যাতে না থাকে। তবে টি ট্রি অয়েল ও অ্যালোভেরা বেশ কাজে দেয়।
* সেনসিটিভ ও মিশ্র ত্বকের ক্ষেত্রে খুবই যত্নশীল হতে হবে। যাতে হাইপোঅ্যালারজেনিক ও কৃত্রিম ঘ্রাণবিহীন, যাতে সালফেট, অ্যালকোহল, প্যারাবেন ও সাবান নেই। মাইক্রোবিডস, স্ক্রাব অথবা এক্সফোলিয়েন্ট করে এমন ফেসওয়াশ এড়িয়ে চলুন। ভিটামিন ই–সমৃদ্ধ ফেসওয়াশ বেছে নেওয়া ভালো। ফোমভিত্তিক ফেসওয়াশ বা ক্লিনজার ব্যবহার করা উচিত





